Page 1 of 1

ইন্টারনেটে আয়ের অন্যান্য বাধা - পর্ব ২

Posted: Sun Sep 22, 2019 2:41 am
by Shihab
  • বিদ্যুত প্রয়োজনঃ
    নিরবচ্ছিনড়ব বিদ্যুত ছাড়া আপনি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন না। একজন ফ্রিল্যান্সারকে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হয়। যে কাজ নির্দিষ্ট কয়েক ঘন্টার মধ্যে দিতে হবে সেকাজ ঘন্টাপ্রতি লোডসেডিং এর মধ্যে করতে পারেন না।
  • অর্থ লেনদেন সহজ হওয়া প্রয়োজনঃ
    আপনি সমস্ত কাজ করবেন ইন্টারনেট ব্যবহার করে, অর্থ পাওয়ার (এবং প্রয়োজনে দেয়ার) কাজটিও ইন্টারনেটেই সারবেন এটাই স্বাভাবিক। উনড়বত দেশগুলিতে মানুষ ব্যাংকে যায় না, পকেটে টাকা নিয়ে বেড়ায় না। সব যায়গায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে বাধ্য করা হয়। তাদের যুক্তি, এভাবে লেনদেনের রেকর্ড থাকে। তথ্য ফাকি দেয়া যায় না।

    অদ্ভুতভাবে, বাংলাদেশে বিপরীত ধারনা পোষন করা হয়। বলা হয় যদি অনলাইনে লেনদেনের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে অবৈধ লেনদেন হবে।

    অনলাইনে কাজ করে টাকা পাওয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে ক্রেডিট-ডেবিট কার্ড এবং পে-পল নামের বিনামুল্যের অনলাইন ব্যাংকিং। বাংলাদেশে পে-পল ব্যবহার নিষিদ্ধ, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে এত বেশি শর্ত যে সাধারন মানুষের নাগালের বাইরে (দেশের মধ্যে প্রচলিত কার্ডগুলিকে এরসাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। এগুলি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহার করা যায় না। এমনকি দেশে ব্যবহারের জন্য প্রথমে এটিএম খোজ করতে হয়। দোকানে টাকাই দিতে হয়)।

    এই ব্যবস্থার ফল হিসেবে যারা অনলাইনে আয় করেন তাদের সবাইকে বিকল্প পথের খোজ করতে হয়। কাউকে অন্যের হাত ঘুরিয়ে টাকা আনতে হয়। এটা একদিকে তাদের জন্য হয়রানি, অন্যদিকে সরাসরি টাকা পেলে সরকারের ঘরে যেটুকু জমা হতে পারত সেটা হয় না। বাস্তবতা যাচাই করার জন্য যারা অনলাইনে কাজ করেন তাদের টাকা পাওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশড়ব করুন। নিশ্চিতভাবেই তারা স্পষ্ট উত্তর দেবেন না। এতটা গোজামিল রেখে দেশের প্রধান আয়ের উৎস বিকাশলাভ করে না।

    কখনো কখনো সরকার কিংবা কিছু বিশেষজ্ঞ বিষয়টি পাশ কাটানোর জন্য বলেন, কাজ তো চলছে। বিষয়টা এমন, পথের মাঝখানে দেয়াল রয়েছে তাতে কি, সেটা টপকে যাওয়া যায়। কিংবা পাশকাটিয়ে যাওয়া যায়। সেভাবে যান।

    সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরী হয় যখন কেউ আগে থেকে এবিষয়ে সচেতন না হন। কাজ করার পর দেখা যায় তারা যে পদ্ধতিতে টাকা দেয় সেই পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ তার নেই। তার পরিশ্রমের টাকা অন্যের হাতে থেকে যায়।

    আপাতত এটুকু পরামর্শ দেয়া যেতে পারে, আগে টাকা দেয়ার পদ্ধতি খোজ নিয়ে তারপর কাজে হাত দিন। কিন্তু এই ব্যবস্থা চিরস্থায়ী হতে পারে না। এখানে পরিবর্তণ প্রয়োজন।